ইথিওপিয়া : মিশরের চেয়েও পুরোনো সভ্যতা
ইসলামের ইতিহাসে ইথিওপিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমদের উপর যখন কুরাইশদের নির্যাতন কঠোর থেকে কঠোরতর হতে লাগল এবং তাদেরকে যখন বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি করলো তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর দয়া করলেন এবং মুশরিকদের হাত থেকে মুক্তি দেন কল্পে আবিসিনিয়ায় হিজরত করার অনুমুতি দিলেন। আবিসিনিয়ার বাদশা নাজাশী ছিলেন উসমান বিন আফ্ফান (রাঃ) তার সাথে ছিলেন নবী নন্দিনী রুকাইয়া (রাঃ) তারা ছিলেন সংখ্যায় ১২ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা। তারা গোপনে মক্কা থেকে বের হয়েছিলেন। লোহিত সাগরের তীরে গিয়ে আল্লাহর তৌফিক মোতাবেক তারা দুটি নৌকা পেলেন। নৌকার মাঝিরা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নিলেন। এটি ছিলেন নবুয়াতের ৫ম সনের রজব মাসের ঘটনা। কুরাইশরা তাদের সন্ধানে বের হয়ে গেল তাদের সন্ধানে লোহিত সাগরের তীরে গিয়ে পৌছালো।
কিন্তু তারা তাদের সন্ধান পেলো না। তারা আবিসিনিয়ায় পৌছিয়ে উত্তম ভাবে অবস্থান করতে শুরু করলেন। এদিকে আবিসিনিয়ায় মুহাজিরদের নিকট এই মর্মে খবর পৌছালো যে , কুরাইশরা মুসলিমদের উপর নির্যাতন বন্ধ করেছে এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং তারা ওই বছর শাওয়াল মাসে প্রত্যাবর্তন করে। যখন তারা মক্কায় এসে পৌঁছান তখনি আসল তথ্য অবগত হতে সক্ষম হন। তারা জানতে পারেন যে কুরাইশরা আগের চেয়ে আরো বেশি নির্যাতন চালাচ্ছে। তখন তাদের কেউ কেউ পুনরাই আবিসিনিয়া ফেরত চলে যায় আবার কেউ কেউ গোপনে অথবা কুরাইশদের কারো নিরাপত্তায় মক্কায় প্রবেশ করেন।
আরো পড়ুন :
সিন্ধু সভ্যতা থেকে ইসলাম সভ্যতাই বাংলার প্রবেশ | পর্ব ০১
টেংরিজম বহুঈশ্বরবাদী প্রাচীন জাতিগত ধর্ম |
অ্যাফ্রোডাইট গ্রিক পুরানের প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী
সোয়া চৌদ্দশো বছর আগের একটি ঘটনা। আরব মরুভূমির মধ্যাহ্ন। আগুনের মতো রোদ নামছে আকাশ থেকে। মরুভূমির বালু যেন টগবগিয়ে ফুটছে। উমাইয়া তার ক্রীতদাস কে নির্দয়ভাবে প্রহার করলো। তারপর তাকে সূর্যমুখী করে শুইয়ে দেয়া হলো। ভারী পাথর চাপিয়ে দেয়া হলো তার বুকে। ক্রীতদাসের মুখে কোনো অনুনয়- বিনয় নেই। মনে নেই কোনো শঙ্কা। চোখে কোনো অশ্রু নেই , মুখে কোনো আর্তনাদও নেই। ঊর্ধমুখী তার প্রসন্নমুখ থেকে বেরিয়ে আসছে আল্লাহর প্রশংসা ধ্বনি 'আহাদ',আহাদ ' ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) .'আহাদ' আহাদ শব্দ তার কানে গেলো। অনুসন্ধিৎসু হয়ে শব্দ লক্ষ্য করে তিনি মরুভূমির বুকে শায়িত ক্রীতদাসের কাছে গেলেন।
উমাইয়াকে দেখে সব ব্যাপারই তিনি মনে মনে বুঝে নিলেন। বললেন ,'উমাইয়া ,আপনাকে ধনী ও বিবেচক লোক বলেই জানতাম। কিন্তু আজ প্রমান পেলাম ,আমার ধারণা ঠিক নয়। দাসটি যদি এতই অপছন্দ ,তাকে বিকর্কি করে দিলেই পারেন। এমন নির্দয় আচরণ কি মানুষের কাজ?''হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর ওষুধে কাজ হলো। উমাইয়া বলল,''এত বাহাদুরি দেখবেন না। দাস আমার ,এর উপর সদাচার-কদাচার করার অধিকার আমারই। তা যদি এটি দয়া লেগে থাকে ,তবে একে কিনে নিলেই পারেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিক ( রাঃ ) এ সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিলেন। তিনি চট করে রাজি হয়ে গেলেন। একজন শ্বেতাঙ্গ ক্রীতদাস ও দশটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে কিনে নিলেন কৃষ্ঞাঙ্গক্রীতদাসকে।হজরত আবু বকর (রাঃ) মরুভূমির বুক থেকে টেনে তুলে দাসের মাথা থেকে ধুলো ঝেড়ে দিলেন।
উমাইয়া বিদ্রুপের হাসি হেসে বললো ,' তুমি কেমন বোকা বলো তো ? এ অকর্মণ্য ভৃত্যটাকে একটি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়েই বিক্রি করে। দিতে চেয়েছিলাম।এখন আমার লাভ ও তোমার ক্ষতি দেখে হাসি সংবরণ করতেকরতে পারছি না। আবু বকর ও হেসে বললেন ,'আমি ঠকিনি বন্ধু ! এ ক্রীতদাসকে কেনার জন্য আমার সব সম্পত্তি দিতেও রাজি ছিলাম। কিন্তু একে আমি ধারণাতীত সস্তা মূল্যে ক্রয় করে নিয়ে চললাম। এ দাশটিই ছিলেন বিশ্ব বিশ্রুতি সাহাবী হজরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ) ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। এ মহান সাহাবীর দেশ ইথিওপিয়া।
ইথিয়োপিয়া পুরোনো , এমনকি মিশরে চেয়েও পুরোনো , কিন্তু তার প্রাচীনত্ব কিছুটা ভিন্ন। যদিও মিশর ছিল বিশ্বের প্রথম অবিসংবাদিত জাতি বা রাষ্ট্র। প্রাচীন মিশরিয়ীরা আদিকাল থেকে তাদের রাজাদের ইতিহাস সংগ্রহ করে রেখেছিল এবং এই কালানুক্রমটি প্রাথমিক এজিয়ান , লেভানটাইন , এবং মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার কালানুক্রমিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু। তবে এটি প্রাচীন ইথিওপিয়ার কোনো সারমর্ম নয়। যদিও ইথিপিয়ানরা তাদের ইতিহাস সংগ্রহ করে রাখে , তবে এগুলো হয় চিরতরে হারিয়ে গেছে অথবা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।
ইথিওপিয়া , ইয়েমেন এবং প্রাচীন ইস্রায়েলের মৌখিক এবং লিখিত ইতিহাসে রাজা সুলাইমানের রাজবংশের রাজনৈতিক প্রমাণপত্র এবং শেবার রানীর উল্লেখ পাওয়া যায়। ইয়ামেনরা শেবার রানী কে দক্ষিণ আরবের রানী মনে করতো আবার ইসরায়েলিদের মতে শেবার রানী , ইথিওপিয়ানদের মতে মাকেদা এবং আরবিতে তার নাম বিল্কুইস বলা হতো।
ইথিওপিয়াতেই মানব জাতির বিবর্তনের গল্প শুরু হয়েছিল। সেখানে প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ বা হোমিনিডদের দেহবশেষ পাওয়া যায়। কিন্তু যদিও অত্যাধুনিক সভ্যতা ঐতিহাসিক ভাবে ইথিওপিয়ার উচ্চ ভূমিতে গড়ে উঠেছিল , অনেক অংশে পর্বত এবং রুক্ষ দেশ এর অনেক মানুষ একটি বস্তুগত অস্তিত্ব ধরে রেখেছে যা আমাদের পূর্বপুরুষদের শিকারি সমাবেশের জীবনধারা থেকে খুব বেশি আলাদা নয়।
দুটি ইথিওপিয়ন অঞ্চল প্রাম্ভিক হোমিনিডদের বাসস্থানের জন্য প্রসিদ্ধ স্থান হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ওমো উপত্যাকায় এবং আফার বা ডানকিল নিম্নচাপ অঞ্চল আজ অবধি এই প্রত্যান্ত এবং অপ্রত্যাশিত অঞ্চলগুলি মূলত বিচ্ছিন্ন রয়েছে বাইরের দুনিয়া থেকে।
তারা আফ্রিকার গ্রেট রিফ্ট ভ্যালির বিভিন্ন অংশ গঠন করে, মধ্য আফ্রিকা থেকে চলে যায়, মহাদেশের পূর্ব অংশের মধ্য দিয়ে, আফ্রিকার হর্নকে ব্যবচ্ছেদ করে, আরবকে আফ্রিকা থেকে বিভক্ত করে, সিনাই উপদ্বীপের রূপরেখা চিহ্নিত করে এবং অনিশ্চিতভাবে শেষ হয়।
আকাবা উপসাগর এবং জর্ডান উপত্যকা
ওমো উপত্যকা এবং দানাকিল নিম্নচাপ ল্যান্ডস্কেপ এবং ভূখণ্ডের মদ্ধ উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। পরেরটি একটি নির্জন এবং নিরানন্দ মরুভুমি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার নিচে এবং পৃথিবীর উষ্ণতম স্থানগুলির মধ্যে একটি, যখন ওমোভ্যালি হল ইডেনের একটি সত্য উদ্যান যেখানে একটি সমৃদ্ধ এবং বিলাসবহুল গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদ এবং বহিরাগত প্রাণিকুলের সাথে দলবদ্ধতা রয়েছে।
অস্ট্রালোপিথেকাস আফারেনসিসের অবশিষ্টাংশ, একটি আদি হোমিনিড যা প্রায় চার মিলিয়ন বছর আগে ছিল, ডানাকিল ডিপ্রেশনে প্রায় সম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা আজকের মরুভূমি সবসময় ছিল না। আদি হোমিনিডরা যখন আফার অঞ্চলে বিচরণ করত, তখন এটি ছিল একটি সু-জলযুক্ত এবং বৃক্ষযুক্ত সাভানা দেশ। ১৯৭৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আওয়াশ নদী উপত্যকায় স্থান খনন করে একটি মহিলা হোমিনিডের কস্কালের অবশেষে আবিষ্কার করেছিলেন যাকে তারা অবিলম্বে ''লুসি'' নাম দিয়েছিলো (স্পষ্টত কারণে তারা বিটলসের লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ডস গানটি শুনছিল) . তিনি সাড়ে তিন ফুট লম্মা লুসি -- নামে পরিচিতি।
মিসরীয় কিংবদন্তিরা কখনো কখনো পুন্টকে সর্প রাজাদের দ্বারা শাসিত একটি দেশ হিসাবে উল্লেখ করে। মজার ব্যাপার হলো বস্তুগত এবং সাহিত্যিক প্রমান ইথিপিয়াতে খ্রিষ্টধর্মের আবির্ভাবের আগে কিছু ধরণের সর্প পূজা নির্দেশ করে। তাহলে ইথিওপিয়া কি মিশরীয়দের চেয়ে পুরোনো সভ্যতা হতে পারে ?
হিব্রুরাও প্রাচীন ইথিওপিয়ার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছে বলে মনে হয়। শেবার রানী এবং রাজা সোলেমানের বৈবাহিক মিলন হিব্রু ইথিপিয়ান বিবাহের প্রথম বাইবেলে উল্লেখ ছিল না। বাইবেল অনুসারে মুসার একজন ইথিওপিয়ান স্ত্রী ছিল। "এবং মরিয়ম এবং হারুন মোশির বিরুদ্ধে কথা বলেছিল কারণ তিনি ইথিওপিয়ান মহিলা যাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন: কারণ তিনি একজন ইথিওপিয়ান মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন," আমরা সংখ্যার বইতে পড়ি।
আরো পড়ুন :
সিরাজ উদ দৌলা - ফোর্ট উইলিয়াম । পর্ব ০১ | অধ্যায়ঃ ০১
সিরাজ উদ দৌলা - ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজ । পর্ব ০১ | অধ্যায়ঃ ২
ঈশ্বর সম্বন্ধে হিন্দুদের বিশ্বাস
ইথিওপিয়া কিং জেমস সংস্করণে ৪৫বার উপস্থিত হয়েছে। ইথিওয়োপিয়ার বেশিরভাগ রেফারেন্স ওল্ড টেস্টামেন্টে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সবসময় সবচেয়ে অনুকূল আলোতে নয়। তবুও, লেভান্টে ইথিওপিয়ান ভূগোলের সাথে ঘন ঘন কিছু পরিচিতি ছিল বলে মনে হচ্ছে।
ইথিওয়োপিয়ার নদীগুলো বাইবেলের উল্লেখ, যেমন গীহোন। ইথিওয়োপিয়ান ঐতিহ্যের সাথে সলোমনিক লিঙ্কের কেন্দ্রিয়িতাকে কংক্রিট প্রত্নতাত্বিক প্রমান দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। শেবার রানীকে স্পষ্টভাবে রাজা সোলেমানের সমসাময়িক হিসাবে স্মরণ করা হয় যার শাসন কাল খ্রিস্টপূর্ব ১০ শতকের কাছাকাছি।
আকসুমাইট্রা গ্রিক এবং গিজ ভাষায় লিখিত রেকর্ড এর একটি দেহ আবিষ্কার করেছিল , সাথে একটি পুরোনো বাইবেলে যা গ্রিক ভাষা থেকে গিজ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল এবং গিজ বর্ণমালা ও গ্রিক বর্ণমালা উভয় লিপির মধ্যে অদ্ভুত এক স্বদৃশ বহন করে।








Post a Comment