সিল্ক রোড । প্রাচীনকালের গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপদজনক বাণিজ্য পথ। 

Silk Road | আদি থেকে আধুনিকতার এক বিস্ময়



সিল্ক রোড হলো প্রাচীনকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দুর্গম বাণিজ্য পথ। পাশ্চত্যের ইউরোপ আর প্রাচ্যের চীন এই দুই এর মধ্যে সংযোগ ও বাণিজ্য স্থাপন করার এক অন্যতম নিদর্শন। খিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে অষ্টদশ শতক পর্যন্ত এশিয়ার উপমহাদেশীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়া ,ইউরোপ ও ভুমধ্যসাগরিয়ো অঞ্চলগুলোর সংযোগ স্থাল। 

যেখানে অর্থনৈতিক , সাংস্কৃতিক , রাজনৈতিক , এবং ধর্মীয় একটি আদি প্রাচীন বাণিজ্যিক পথ। সেই সময়ে যদি কোনো ব্যাক্তি এই দুর্গম ও রোমাঞ্চকর পথ পারি দিয়ে বাণিজ্য করতে সিল্ক রোডে পৌসাতে পারতো সে অধিক মুনাফা অর্জন করতো। কিন্তু এই পথ যেমন দুর্গম তেমন ভয়ংকর। বিশেষ করে ক্লান্ত  ব্যাবসায়ীদের জন্য ফাঁদ পেতে অপেক্ষা করতো ভয়ংকর দস্যু দল। যারা ফাঁদে ফেলে বাণিজ্যিক কাফেলা আক্রমণ করতো। তাহলে চলুন এই রোমাঞ্চকর সিল্ক রোড সম্পর্কে জেনে আসা যাক। 






Silk Road | আদি থেকে আধুনিকতার এক বিস্ময়

                                  সিল্ক রোড গামী একটি বাণিজ্যিক কাফেলা। 


প্রায় ৪০০০ মাইল দীর্ঘ এই পথের নামকরণ করা হয়েছে চীনা সিল্ক ব্যাবসার নামে যা হান রাজত্বকালে আরম্ভ হয়েছিল। যদিও এই রোডটি সিল্ক বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত কিন্তু শুদু সিল্ক নয় অন্যা সব পণ্য ও আনা নেয়া করা হতো। চীন , কোরিয়া , জাপান , ভারত উপমহাদেশ , ইরান , ইউরোপ, আফ্রিকা  ও  আরবের অন্তরীপ ইত্যাদি সভ্যতা সমূহের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উদ্বোধন করে সিল্ক রোডে বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 



এটি গড়ে ওঠে খিস্টপূর্ব প্রথম শতকে চীনের হ্যান রাজবংশের আমলে। দশম শতাব্দীর চীনের সং রাজবংশের আমলে বন্ধ হয়ে যায়। এটি নতুন করে ২০১৪ সালের দিকে চালু করার উদ্বেগ নেয়। পুনরায় চালু করার পিসনে কিছু কারণ ছিল। উদ্দেশ্য ৩ মহাদেশ ব্যাপী যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক অঞ্চল ও করিডোর প্রতিষ্টা। এর আওতায় রয়েছে ৬৮ টি দেশ ও ৬০শতাংশ ও ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক প্ৰবৃদ্ধি। জুন ২০১৪ সালে ইউনেস্কো সিল্ক রোডের চ্যাং আন তিয়ানশান কোরিডোরকে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান দিয়েছে। ভারতের অংশ পরীক্ষামূলক সাইটের তালিকায় রয়েছে। 




Silk Road | আদি থেকে আধুনিকতার এক বিস্ময়

সমরকন্দ সিল্ক রোডের অন্যতম প্রধান শহর 



সিল্ক রোড নাম কিভাবে হলো ?

সিল্ক রোডের নাম রেশমের লাভজনক বাণিজ্য থেকে এসেছে যা প্রথমে চিনে বিকশিত হয় এবং বাণিজ্যিক রুটগুলো একটি ট্রান্সকন্টিনেন্টাল নেটওয়ার্কের সংযোগের প্রধান কারণ। এটি জার্মান শব্দ আক্ষরিক অর্থে সিল্ক রোড থেকে উদ্ভুত এবং প্রথমটি ১৮৭৭ সালে ফার্ডিনান্ড ভন রিচথোফেন দ্বারা জনপ্রিয় হয়েছিল যিনি ১৮৬৮ থেকে ১৮৭২ পর্যন্ত চীনে সাতটি অভিযান করেছিলেন। সিল্ক রোডের বিকল্প নাম সিল্ক রুট ও মাঝে মাঝে ব্যাবহারিত হয়।  যদিও শব্দটি ঊনবিংশ শতাব্দী তে আবিষ্কার হয়েছিলো , এটি ২০ তম শতাব্দী পর্যন্ত শিক্ষাবিষয়ক বা জনসাধরণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাইনি। দা সিল্ক রোড নামে প্রথম বইটি ছিল সুইডিশ ভূগোলবিদ স্যাভেন হ্যাডিনের ১৯৩৮ সালে। 





সিল্ক রোড শব্দটি ব্যবহার এর প্রতিবাদকারীদের ছাড়া নয়। উধারন স্বরূপ ওয়ারউইক বল যুক্তি দেখান যে ভারত এবং আরবের সাথে সামুদ্রিক মসলা বাণিজ্য রোমান সাম্রাজ্যের অর্থনৈতির জন্য চীনের সাথে রেশম বাণিজ্যের জন্য অনেক বেশি ফলপ্রসূ ছিল যা সমুদ্রে বেশিরভাগ ভারতের মধ্যেমে পরিচালিত হতো এবং ভূমিতে অনেক মধ্যস্তকারী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল সগদিয়ান হিসেবে। পুরো বিষয়টিকে আধুনিক শিক্ষাবিদের একটি মিথ বলার জন্য বল বলেছেন যে মঙ্গোল সম্রাজ্যের সময় পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া থেকে পশ্চিম এ কোনো সুসংগত ওভারল্যান্ড বাণিজ্য ব্যাবস্থা ছিলোনা এবং পণ্যগুলোর অবাধ চলাফেরা ছিলোনা। 





কি কি পণ্যের বাণিজ্য চলতো সিল্ক রোডে ?

সাধারণত রেশম ব্যাবসার মাধমে সিল্ক রোডের ব্যবসা শুরু হয় , বলতে গেলে সিল্ক বা রেশম ছিল প্রধান পণ্য বাণ্যিজের জন্য।  কিন্তু সিল্ক বাদেও অনেক পণ্য ছিল যেমন গবাদি পশু , চামড়া , লোহা , মসলা ,  লবন , ধর্মীয় জিনিস পত্র , সংস্কৃতি ভিত্তিক জিনিস। 



Silk Road | আদি থেকে আধুনিকতার এক বিস্ময়

                                                     হ্যান সম্রাজ্যের এক দল রেশম ব্যাবসায়ী 


তৃতীয় শতাব্দীতে সিল্ক রোডে কাগজের বাণিজ্য অধিক প্রভাব লক্ষ যায় পুরো পৃথিবীতে। কারণ ছিল তৃতীয় শতাব্দীর আগে কেউ লিখার বা অন্য কোনো কাজের জন্য কাগজ ব্যবহার করতোনা কাগজের পরিবর্তে চামড়া বা কাপড় ব্যবহার করতো। যখন কাগজ আবিষ্কার হলো তখন পশ্চত দেশে কাগজ এর প্রভাব বাড়তে থাকে। 





কোনো সিল্ক রোড গুরুত্বপূর্ণ ছিল ?

সিল্ক রোডে বাণিজ্য শুরু হওয়ার থেকেই সিল্ক রোড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে  করে বাণিজ্যে , রাজনীতি , সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু তৃতীয় শতাব্দীতে সিল্ক রোড পৃথিবীর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠে। তৃতীয় শতাব্দীতে কাগজ ও বারুদের আবিষ্কার হয় চীনে। এই দুই টা জিনিস আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে পূর্ব -পশ্চিম , উত্তর - দক্ষিণ পৃথিবীর প্রতিটা প্রান্তে কাগজ এবং বারুদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। চিনে বারুদ এবং কাগজ আবিষ্কার হওয়ার পর ৭০০ খিষ্টাব্দে সিল্ক রোডের মাধমে সমরকন্দ বর্তমান সময়ে আফগানিস্তানে এসে পৌষায় যার ফলে বদলে যায় পৃথিবীর বাণিজ্য ব্যাবস্থা এবং পৃথিবীর ইতিহাস। কাগজ আবিষ্কার এর ফলে লিখার, যুদ্ধের পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার শুরু হয়। 


এই আধুনিক বিশ্বের উন্নতির সিংহ ভাগ অবদান  রয়েছে সিল্ক রোড এবং এই রোডে ব্যবসা করা প্রতিটি মানুষের বিশেষ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে এই সিল্ক রোডে চলাচল করা প্রতিটি প্রাণীর নিজেস্ব একটি রোমাঞ্চকর ইতিহাস রয়েছে। 


You have to wait 60 seconds.






Post a Comment